বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন শয্যাশায়ী ওবায়দুল কাদেরের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হচ্ছে। ছবিতে ওবায়দুল কাদেরের নাকে মুখে নলসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি লাগানো অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।

এ ধরনের ছবি প্রকাশিত হওয়ায় বিএসএমএমইউর চিকিৎসকরা চটেছেন। যারা ছবি তুলেছেন তাদের ব্যাপারে কঠোর সমালোচনা করেছেন চিকিৎসকরা। এ খবরটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানে পর্যন্তও পৌঁছেছে। এ ছবিটি কখন, কীভাবে, কে তুলেছে, কে-ই বা পোস্ট দিয়েছেন তা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের ধারণা, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ যখন ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে আসেন তখন তার সঙ্গে আসা লোকজনের মধ্যেই কেউ হয়তো ছবিটি তোলেন এবং পরে পোস্ট দিয়েছেন। তারা বলেন, ‘আইসিইউতে রোগী জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকেন। এ অবস্থায় ছবি তোলা তো অনেক দূরের কথা, দেখা করতে গেলেও মুখে মাস্ক, পায়ে জুতা ও শরীরে গাউন দিয়ে ঢেকে তবেই যেতে হয়। কিন্তু তাকে দেখতে গিয়ে মন্ত্রী, সাংসদ ও রাজনীতিবিদদের অধিকাংশই সংক্রমণের কথা ভাবেননি।’

অনেকেই মুমূর্ষু ওবায়দুল কাদেরের ছবি তোলা এমনকি তার শয্যাপার্শ্বে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলেছেন বলেও ওই চিকিৎসকরা জানান।

এদিকে সোমবার সকাল থেকেই বিএসএমএমইউর সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে বেশকিছু পুলিশ সদস্য অবস্থান নিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে সাধারণের কোনো গাড়ি বিএসএমএমইউতে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো নেতাকর্মীদেরও ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা মুজিব জাগো নিউজকে জানান, সকাল ৭টা থেকে আমরা এখানে আছি। নিরাপত্তার স্বার্থে দায়িত্ব পালন করছি।

রোববার (৩ মার্চ) সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিএসএমএমইউর আইসিইউতে ভর্তির পর ওবায়দুল কাদেরের ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়। আইসিইউতে চিকিৎসা দিয়ে অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে তার এনজিওগ্রাম করে হৃদপিন্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এসময় একটি রক্তনালীতে রিং (স্ট্যান্টিং) বসানো হয়। এরপর উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাধিক মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।