ছবি: সংগৃহীত

কতো ঘটনাই তো ঘটে দেশের আনাচে-কানাচে। কিন্তু তাই বলে বাসের বেড়া দেওয়া বাসের কথা ভাবা যায়! শুনতে একটু অদ্ভুত ধরণের মনে হলেও এমনটাই ঘটেছে বরগুনা-খুলনা রুটে বিআরটিসি ডিপোর একটি বাসে।

ওই বাসটিতে সামনের অংশে কাঁচের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ।

বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এমন অবস্থার জন্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ খুলনা অঞ্চলের কারিগরি ব্যবস্থাপক ওমর ফারুক মেহেদী বলেন, ওই বাসের ফিটনেস পরীক্ষা করেই সড়কে চলাচলের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ সামনের গ্লাসটি ভেঙে যাওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। বাসটিতে নতুন গ্লাস লাগানো হয়েছে। এখন কোনো সমস্যা নেই।

বরগুনা বিআরটিসি ডিপোর পরিচালক মো. নয়ন হোসেন বলেন, বাসটি সামনের গ্লাস ছাড়াই বরগুনা আসে। বরগুনায় গ্লাস লাগানোর কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সে কারণে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এভাবে করেছি। এছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার খুলনা থেকে বিআরটিসি সার্ভিসের ওই বাসটি বরগুনায় আসার পথে সামনের গ্লাসটি ভেঙে পড়ে যায়। এ অবস্থায় বাসটি ঝুঁকি নিয়ে বরগুনায় চলে আসে। যাওয়ার পথে বাসের সামনের গ্লাসের জায়গায় বাঁশের ফালিতে পলিথিন দিয়ে বেড়ায় মুড়িয়ে বরগুনা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এ সময় যাত্রীদের অনেকে আপত্তি করলেও অগ্রাহ্য করে ওই অবস্থায় খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বাসটি।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই বাসের যাত্রী সাগর কর্মকার বলেন, এদের কাছে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। ঈদের মৌসুমে এমন একটি লক্কড়-ঝক্কড় বাস কীভাবে সড়কে চলাচল করতে পারে আমি বুঝি না। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়ী।

প্রসঙ্গত, এর আগে সারাদেশে সরকারি ভবন তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা একের পর এক ফাঁস হতে থাকায় পূর্তকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। ভবন ও স্থাপনাগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। স্বয়ং রাষ্ট্রপতিও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কটাক্ষমূলক মন্তব্য করেছেন।