মনিরামপুরে বাড়িঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি, সংবাদ সম্মেলন

মনিরামপুরে বাড়িঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি, সংবাদ সম্মেলন
যশোরের মনিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ একই পরিবারের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা কায়ছেদ আলী মোল্লা। লিখিত বক্তব্যে কায়ছেদ আলী জানান, ১৯৮৫ সালে বাবার কাছ থেকে মনিরামপুরের ঢাকুরিয়া ও ভবানীপুর মৌজায় মোট ১৩ শতক জমি কেনেন তিনি। ওই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৪ অক্টোবর সকালে তাঁর ভাই ইদ্রিস আলীর পক্ষ নিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন কবির মিন্টুর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। কায়ছেদ আলীর অভিযোগ, হামলাকারীরা হাতুড়ি, রামদা ও রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর এবং জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে, বোন, ভাগ্নি, ভাগ্নিজামাইসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ ও গুম করার হুমকি দেন। এতে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর মনিরামপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন কায়ছেদ আলী। এ কারণে তাঁরা আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সজীব হোসেন, আল আমিন, রেহেনা, ফরিদা, আমেনা, রুপা, হেনা ও রাসেল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বসতবাড়ি ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযোগের বিষয়ে হুমায়ুন কবির মিন্টুর সাথে যোগাযোগ করা হবে তিনি এ বিষয়ে অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ শহর থেকে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
জনপ্রিয়