হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন ২০২৩ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বেনিফিট নিশ্চিতকরণ এবং মাদক আইনে হোমিওপ্যাথিক ঔষধের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপির প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তিন দফা দাবি আদায় লক্ষ্যে মানববন্ধন ও স্মারকলিপির প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করে হোমিওপ্যাথিক কলেজ শিক্ষক সমিতি বাংলাদেশ।
আজ সকালে রাজধানীর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সারা দেশ থেকে আগত শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক, কলেজের শিক্ষক বৃন্দ, ছাত্র-ছাত্রীসহ হোমিওপ্যাথিক কলেজের কর্মচারীরা এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি আয়োজিত এই মানব বন্ধন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের ৬৬ টি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক, হোমিওপ্যাথিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক ,কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সঞ্চালনা করেন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মীর মোঃ নাঈমুল হক । মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডাক্তার মোঃ খলিলুর রহমান ।
এছাড়া উক্ত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, সম্মিলিত হোমিওপ্যাথিক জোট ও সাবেক সভাপতি জাসাস জাতীয় নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক ডাক্তার আরিফুর রহমান মোল্লা, এইচডেব কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল সভাপতি ডাক্তার শফিকুল আলম নাদিম । এইচডেব কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ডাক্তার এ কে এম জাকির হোসেন মিয়া, ডি এইচ এম এস ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির ডাক্তার মোহাম্মদ মুজিবুল্লাহ মজিব, হোমিও জাতীয় ঐক্যজোট আহবায়ক ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটি ডাক্তার শাহজালাল আহমেদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সহ-সভাপতি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল ।
উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সম্মানিত অধ্যক্ষ ও শিক্ষক চিকিৎসক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংগঠনের সভাপতি ডাক্তার মোঃ খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মীর মোঃ নাইমুল হক প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আজকের মানববন্ধন সভায় যে তিন দফা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য দেয়া হয়েছে তা নিম্নে পাঠকদের জানার জন্য দেয়া হলো।।
এক নাম্বার।। কাউন্সিলের গভর্নিং বডি ও নির্বাহী পরিষদ গঠন পাষকৃত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার শিক্ষা আইন ২০২৩ এর বিধান অনুযায়ী অবিলম্বে কাউন্সিল পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ গভর্নিং বডি ও নির্বাহী পরিষদ গঠন করে প্রশাসনিক ও একাডেমিক স্থবিরতা দূর করতে হবে।
দুই নাম্বার ।।।বেতন বেনিফিট নিশ্চিতকরণ শিক্ষক ও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বেতন ও আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ও কার্যকর ব্যবস্থা।

তিন নাম্বার।। মাদক আইনে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ এর অন্তর্ভুক্তি বাতিল চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত ফার্মা কুপিয়া হোমিওপ্যাথি ঔষধ খেয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতাও মুক্ত রেখে চিকিৎসা সেবা ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
মানববন্ধন শেষে সভাপতির বক্তব্যে ডাক্তার মোঃ খলিলুর রহমান বলেন ১৯৭২ সাল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়ে দ্বিতীয় জনপ্রিয় বিকল্প চিকিৎসা মাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে ডিএইচএমএস এবং বিএইচএমএস কোর্স সমূহ পরিচালিত হলেও নানানকের সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঠিক নির্দেশনা ও দ্রুত পদক্ষেপই পারে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষার এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে।
উক্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠানে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মীর মোঃ নাইমুল হক সারা দেশ থেকে আগত সকল হোমিওপ্যাথিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ চিকিৎসক শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রী ও হোমিওপ্যাথিক কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের মানববন্ধনে উপস্থিত হওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং আগামী হোমিওপ্যাথি বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলনে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।