মানুষের জীবন ব্যস্ততায় ঘেরা। জীবিকা, পরিবার, সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদা অর্জনের প্রতিযোগিতায় অনেক সময় মানুষ ভুলে যায় নিজের জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য। অথচ একদিন এই পৃথিবীর সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। মানুষকে দাঁড়াতে হবে মহান আল্লাহর সামনে, দিতে হবে জীবনের প্রতিটি কাজের হিসাব। পবিত্র কোরআনের সুরা ইনফিতারে কিয়ামতের ভয়াবহতা, মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং পরকালের জবাবদিহির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সুরা ইনফিতার পবিত্র কোরআনের ৮২তম সুরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। ১৯ আয়াতের এই সুরায় কিয়ামতের সময় মহাবিশ্বের যে পরিবর্তন ঘটবে, তার বর্ণনা রয়েছে। আল্লাহ বলেন, যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, যখন নক্ষত্রগুলো ঝরে পড়বে, যখন সমুদ্রগুলোকে উচ্ছ্বসিত করা হবে এবং যখন কবরগুলো উন্মুক্ত করা হবে, তখন প্রত্যেক ব্যক্তি জানতে পারবে সে আগে কী পাঠিয়েছে এবং পরে কী রেখে এসেছে। (আয়াত: ১-৫)
এই বর্ণনা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর বর্তমান ব্যবস্থাপনা চিরস্থায়ী নয়। একদিন সবকিছুর পরিবর্তন ঘটবে। সেদিন মানুষের সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক পরিচয় কোনো কাজে আসবে না। কাজে আসবে শুধু দুনিয়ার জীবনে করা ভালো ও মন্দ আমল।
সুরাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করা। আল্লাহ মানুষকে প্রশ্ন করেছেন, হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান প্রতিপালক সম্পর্কে প্রতারিত করল? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুষম করেছেন। (আয়াত ৬-৭)
মানুষের জীবন, সুস্থতা, বিবেক, পরিবার ও জীবিকার প্রতিটি সুযোগ আল্লাহর অনুগ্রহ। অথচ এসব নিয়ামত পেয়েও অনেক মানুষ আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়। তাই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করা এবং স্রষ্টার নির্দেশ মেনে চলা জরুরি।
সুরাটিতে আরও বলা হয়েছে, মানুষের কাজকর্ম সংরক্ষণের জন্য সম্মানিত লেখক ফেরেশতারা নিয়োজিত রয়েছেন। তারা মানুষের প্রতিটি কাজ জানেন। (আয়াত ১০-১২)
এ থেকে বোঝা যায়, মানুষের কোনো কাজই হিসাবের বাইরে নয়। গোপনে করা অন্যায়ও আল্লাহর কাছে অজানা থাকে না। সুরাটির শেষাংশে জানানো হয়েছে, সেদিন কেউ কারও কোনো উপকার করতে পারবে না। সব কর্তৃত্ব থাকবে একমাত্র আল্লাহর হাতে। (আয়াত ১৯)
সুরা ইনফিতারের মূল শিক্ষা হলো, দুনিয়ার জীবনকে পরকালের প্রস্তুতি হিসেবে গ্রহণ করা। প্রতিটি কাজে সততা, দায়িত্বশীলতা ও আল্লাহভীতি বজায় রাখা। কারণ, একদিন সবাইকে নিজের কাজের হিসাব দিতে হবে।


















