Advertisement

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ধর্ম, বর্ণ কিংবা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমঅধিকার ও নিরাপদ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাণীতে তিনি দেশে ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। ধর্ম মানুষকে অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে রেখে মুক্তির পথ দেখায়। তাই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে সবাইকে নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুর্গাপূজা বাংলাভাষী সনাতন সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। অন্যায়, অসত্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার চিরন্তন আহ্বান এই উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়।

তিনি বলেন, এ দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আবহমানকাল ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছেন। এ উৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ। দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এর সঙ্গে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সমাজের সব স্তরের মানুষ সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ দেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের পরিচালনা, সংস্কার এবং উন্নয়নেও সরকার সহায়তা দিচ্ছে।

তিনি জানান, পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেয়ার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ ছাড়া ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্ভয়ে, স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে আনন্দের সঙ্গে পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যাতে বৈষম্য, বঞ্চনা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দুর্গোৎসবের আনন্দ সমাজের অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন সম্প্রদায়ের সবার জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। সব ভেদাভেদ ভুলে মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণের বার্তা ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ুক।

জনপ্রিয়