চা বিক্রেতা দুরূদ হত্যা মামলায় ছাদিক মিয়ার মৃত্যুদণ্ড
-
অনলাইন ডেস্ক
- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে চা বিক্রেতা দুরূদ মিয়াকে হত্যায় প্রধান আসামী ছাদিক মিয়ার মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালত। সোমবার দুপুরে এ রায় দেয়া হয়।
জানা যায়, পাওনা ১ হাজার ২’শ ৬৩ পাওনা টাকা চাওয়ায় চা বিক্রেতা দুরূদ মিয়াকে ২০০৮ সালে হত্যা করেন সাদিক মিয়া ও তার সহযোগিরা। দীর্ঘ ১৮ বছর পর হত্যাকারী ছাদিক মিয়ার মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী সাদিক মিয়া ও নিহত দুরূদ মিয়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নারাইনপাশা গ্রামের বাসিন্দা।
মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি সাদিক মিয়াকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেয়া হয়।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত দুরূদ মিয়ার ছেলে মকবুল মিয়া বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেছিলেন।
মামলার এজহার সুত্র থেকে জানা যায়, বাদী মকবুল মিয়া গত ১১/০৬/০৮ইং তারিখ ইট ভাঙ্গার কাজের জন্য দিঘীরপার বাজারের নিকটে শাহজাহান মিয়ার ইট ভাটায় যান। ১২/০৬/০৮ ইং তারিখ দুপুর অনুমান ১টার সময় আমার বোন জয়নব বেগম আমার কাজের জায়গায় অর্থাৎ ইট ভাটায় আসিয়া আমাকে জানায়, সকাল অনুমান সাড়ে ৬টায় সময় আমার বাবার দোকানে ছাদিক মিয়া চা খাওয়ার সময় তাহার নিকট আমার বাবার দোকান বাকীর পাওনা টাকা চাইলে সাদিক মিয়া তাহার বাড়ী চলিয়া গিয়া তার চাচা ও ভাইদেরকে নিয়া আসিয়া ধারালো চাকু দ্বারা আমার বাবার পেটের বাম দিকে ঘাই মারিয়া রক্তাক্ত জখম করিলে উপস্থিত আমার আত্নীয় স্বজন আমার বাবাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে আনিয়া চিকিৎসা করাইলে তাহার অবস্থা খারাপ দেখিয়া কর্তব্যরত ডাক্তার আমার বাবাকে সিলেট নিয়া যাওয়ার কথা বলিলে আমি তাড়াহুড়া করিয়া আমার বোন জয়নব বেগমকে নিয়া দুপুর অনুমান ২টার সময় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে আসিয়া পশ্চিম গেইটের বারান্দায় আমার বাবার মৃত দেহ দেখিতে পাই । ঐ সময় আমার ফুফাত ভাই মা জরিফ মিয়া পিতা হাজী ধনর মিয়া, ২। মোঃ আঃ মুকিত পিতা মৃত শফর উদ্দিন, । ফারুক মিয়া, পিতা মৃত ইসমাইল, কুরূশ মিয়া পিতা মৃত জফুর মিয়া, ৫। মারাজ মিয়া পিতা ইলাছ মিয়া, ৬ মৌলা মিয়া পিতা মৃত আক্তার মিয়া সর্ব সাং নারাইনপাশা সর্ব থানা ও জেলা- মৌলভীবাজার সহ উপস্থিত অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের নিকট হইতে জানিতে পারি যে, অদ্য-১২/০৬/০৮ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার সকাল অনুমান সাড়ে ৬টার সময় আমাদের বাড়ীর নিকটে আমার বাবার মুদি দোকানে বিবাদী ১। ছাদিক মিয়া (৩৫) পিতা ময়না মিয়া সাং- নারাইনপাশা থানা ও জেলা – মৌলভীবাজার আসিয়া চা খাওয়ার সময় আমার বাবা মৃত দুরূদ মিয়া তিনির দোকানের পাওনা ১২৬৩ টাকা চাহিলে বিবাদী ছাদিক মিয়া রাগাঙ্গীত হইয়া বাড়ী চলিয়া যায়। অনুমান ১০.০০ মিনিট পর অর্থাৎ ৬.৩০ঘটিকার সময় উক্ত বিবাদী ছাদিক মিয়া একটি ধারাল চাকু নিয়া তাহার চাচা বিবাদী ২। তছকির মিয়া (৪৫) পিতা মৃত আবাছ উল্লা, ৩। সিরাজ মিয়া (৩০) পিতা ময়না মিয়া, ৪। নুরুল ইসলাম (২৮) পিতা ঐ, ৫। ছাইফুর রহমান (৩০) পিতা ইদ্রিস মিয়া, ৬। আতাউর রহমান (২৬) পিতা ঐ, ৭। শফিক মিয়া (৩০) পিতা মৃত লেফাছ মিয়া, ৮ । আছার মিয়া (৩৮) পিতা ছুবান মিয়া, সর্ব সাং- নারাইনপাশা, সর্ব থানা ও জেলা- মৌলভীবাজার রা আমার বাবার মুদির দোকানে আসিয়া ১নং বিবাদী ছাদিক মিয়াকে ২নং বিবাদী তছকির মিয়া হুকুম দিয়া বলে “শানারে মারিলা” ঐ সময় ১নং বিবাদী ছাদিক মিয়া অন্যান্য বিবাদীদের সহায়তায় তাহার হাতে থাকা ধারাল চাকু দিয়া আমার বাবার পেটের বাম দিকে(অর্থাৎ বাম “পাজরের নিচে) ঘাই মারিলে আমার বাবার চিৎকারে পার্শের দোকান হইতে আমার ফুফাত ভাই জরিফ, মিয়া ঘটনাস্থল আমার বাবার দোকানে উপস্থিত হইলে উক্ত বিবাদী ছাদিক মিয়া তাহার হাতে থাকা চাকু দিয়া আমার বাবাকে পুনঃরায় আরেকটি ঘাই মারিতে চাহিলে আমার ফুফাত ভাই জরিফ মিয়া জোর করিয়া বিবাদী ছাদিকের নিকট হইতে চাকুটি নিয়া আসেন। আমার বাবার চিৎকারে উল্লিখিত সাক্ষীগণ সহ আশপাশ হইতে লোকজন দৌড়াইয়া আসিলে উল্লিখিত সকল বিবাদীরা দৌড়াইয়া পালাইয়া যায়। উপস্থিত লোকজন ও আমার আত্নীয় স্বাজন রা একটি সি,এন,জি যোগে আমার বাবা দুরূদ মিয়াকে রক্তাক্ত জখনি অবস্থায় সকাল অনুমান ৮.৩০ ঘটিকার সময় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করাইলে আমার বাবার শারীরিক অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় ডাক্তার আমার বাবাকে সিলেট উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করিলে বর্ণিত কতেক সাক্ষী ও আমার আত্নীয় স্বজনরা এ্যামবুলেন্সযোগে আমার বাবাকে গুরুতর জখমি অবস্থায় সিলেটের উদ্যেশ্য রওয়ানা করিলে পথিমধ্যে দুপুর অনুমান দেঢ়টার সময় আমার বাবা মৃত্যু বরণ করেন। আমার আত্নীয় স্বজনরা আমার বাবরি মৃত দেহ নিয়া পুনঃরায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে আসেন।
জনপ্রিয়


















