তিন হাজারে রাত্রিযাপনের চুক্তিতে ১ হাজার পরিশোধের জেরে হত্যা, আটক-২
-
অনলাইন ডেস্ক
- আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
তিন হাজার টাকার বিরোধের জের ধরে মোংলার মালগাজী এলাকার আঃ জবেদ আলী’র মেয়ে আসমা বেগম (৩৯) নামে এক এক নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। রাত্রিযাপনের জন্য ৩ হাজার টাকার চুক্তি হলেও অবস্থান শেষে চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকা না দিয়ে নিহতকে মাত্র ১ হাজার টাকা পরিশোধ করে। বাকি ২ হাজার টাকা দেওয়া নিয়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায় বাকি টাকা না পরিশোধ করায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে মোংলা থানা পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে নিহত নারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব এলাকার মৃত নুরুল শেখের ছেলে ইকরামুল শেখ (৪০) এবং ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দেলুটিয়া এলাকার মৃত মোজাফফর হাওলাদারের ছেলে মো. মীর আলী (৪৮)। মো. মীর আলী মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের ছড়াবাড়ি এলাকার আনোয়ার মোল্লার বাড়ির ভাড়াটিয়া।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে মোংলা থানা আয়োজিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুলিশ জানায়, নিখোঁজ জিডির সূত্র ধরে প্রায় ৬০ দিন পর নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মোংলা ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আসমা বেগম। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের ছয় দিন পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রূপসা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বটিয়াঘাটা থানাধীন কাজিবাছা নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের পর নৌ পুলিশের বেতার বার্তায় প্রচারিত ছবি দেখে তদন্ত শুরু করে মোংলা থানা পুলিশ। একপর্যায়ে পুলিশ আসমা বেগমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহের পরনে থাকা প্যান্টের ছবি দেখায়। ছবিটি দেখে তদন্তকারীরা লক্ষ করেন, প্যান্টটির রং ও নকশার সঙ্গে আসমা বেগমের বাসায় থাকা আরেকটি প্যান্টের মিল রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানায়, প্যান্ট দুটি একই থান কাপড় থেকে তৈরি করা হয়েছিল। এ ছাড়া মরদেহের নাকে থাকা নাকফুল দেখে স্বজনরা নিশ্চিত হন এটি আসমা বেগমের মরদেহ।
পুলিশ আরও জানায়, নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ইকরামুল শেখ ও মো. মীর আলীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ইকরামুল শেখ হত্যায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ
ইকরামুলের দেওয়া তথ্যে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে নিহত আসমা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, চায়ের দোকান থেকেই ইকরামুল শেখ ও মীর আলীর সঙ্গে আসমা বেগমের পরিচয় হয়। তাঁরা ওই দোকানের নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন। আসমা বেগমের প্রতি তাঁদের খারাপ দৃষ্টি ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানান মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম।
নিহত আসমা বেগম মোংলা বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি চায়ের দোকান চালাতেন। তাঁর ১৭ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ৯ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
জনপ্রিয়


















