বিষণ্ন হেমন্তে
হেমন্তের পথ বেয়ে নামে কি এক বিষণ্নতা
পুরোনো দেওয়াল ঘেঁষে একা দাঁড়ায় সময়;
বাতাসে ভাসে না আর কোনো চিরদিনের কথা
অফিসফেরতা মানুষের চোখে শুধু ক্লান্ত প্রণয়।
শহরের সব পাখি ফিরে যায় কাঁচের বাসায়;
শহরের সব আলো নিভে আসে ধীরে ধীরে;
জীবনের কত শত না-বলা কথা লুকানো আশায়
স্মৃতির নুড়ি কুড়ায় কেবল ভাঙা মন ভিড়ে।
হিজলের ডালে আজ জমেছে অদ্ভুত এক নীরবতা
তোমার চোখের চাউনিতে ছিল যে গভীর প্রতিশ্রুতি,
আজ বুক চিরে শুধু ভেসে ওঠে না-পাওয়ার ব্যথা
অন্ধকার ঘরে একা কাটে প্রতিটি নিঃসঙ্গিতি।
হেমন্তের কুয়াশায় ঢেকে যায় সবুজের মোহময় টান
অফুরান শূন্যতা গ্রাস করে আমাদের দুইকূল,
সবাই তো গায় আজ কোনো এক হারানোর গান
হৃদয়ের মৃত নদীতে ঝরে পড়ে অপূর্ণতার ফুল।
হলুদ পাতার ভাঁজে আজো লেখা আছে আমাদের নাম
তুমি আর আমি মিশে আছি কুয়াশায় ঢাকা পথে,
বিরহের চাদরে মুড়ে ফেলে জীবনের সব পরিধান
প্রেম ভেসে রয় আজো হেমন্তের বিষণ্ণ ছায়ায় ।
লেখক
ড. মাহবুব বিন শাহজাহান
প্রফেসর, আইন বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া


















