যশোরে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ১৬
-
অনলাইন ডেস্ক
- আপডেট সময় : ১০:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
- যশোর
যশোর শহরের লালদীঘিরপাড়ের মাইকপট্টি মোড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামরুজ্জামান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ১৬ জনকে আটক করেছে।
মামলার আসামিরা হচ্ছে,নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়ার শেখ হালিম আক্তারের ছেলে যুবলীগ নেতা শেখ শহিদ, পুরাতন কসবার মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে ইমরান হোসেন খান বাদল, শংকরপুরের ছোটনের মোড়ের নাজিম উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আলী, তেঁতুলিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে বিপ্লব হোসেন, ভাতুড়িয়া গ্রামের সেলিমের ছেলে তানভীর, পুলিশ লাইন ঘোষপাড়ার রফিকুল ইসলাম রহমত, চৌরাস্তার মৃত শফির ছেলে সানোয়ার হোসেন সানু, শংকরপুরের হাসেম গাজীর ছেলে রনি, ছোটনের মোড়ের জাফর, বারেক সড়কের হাবিবুরের ছেলে রসুল, ছোটনের মোড়ের পারভেজ, একই এলাকার গফুরের ছেলে পারভেজ, বারেক সড়কের কাদেরের ছেলে আবির, পুরাতন কসবার শহিদুলের ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম রকি ওরফে সোহাগ, যশোর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি নিরালাপট্টির তৌহিদুর রহমান শাকিল, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন শাহ, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মথুরাপুর গ্রামের সরোয়ার হোসেন সারু, ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি শাহাবাজপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর মৌরি, উত্তর ললিতাদাহ গ্রামের সোহাগ হোসেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মথুরাপুর গ্রামের আবু তাহের, একই গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ভেকুটিয়া গ্রামের মোতালেবের ছেলে আব্দার রহমান, খোলাডাঙ্গার জুলগাজীর ছেলে শহিদুল গাজী, যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌরভ হোসেন অভি, তেঘরিয়া গ্রামের মুকুল, পালবাড়ির সাজু, পোস্ট অফিসপাড়ার পাপিয়া, বেজপাড়ার সুজন ইসলাম সাজু, নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়ার পঙ্খি, ষষ্ঠীতলার মামুন, চুড়ামনকাটির বিপ্লব বকশি, পোস্ট অফিসপাড়ার পিকুল, বকচরের শহিদ, ষষ্ঠীতলার নিশান, কাঁসাপট্টির জাহিদ হাসান টুটুল, রেলগেটের অন্তর দে শুভ, তেঘরিয়া গ্রামের জিয়াউর রহমান জিয়া, দেয়াড়ার আলাউদ্দিন, উপশহরের আসাদুজ্জামান, মহাদেবপুরের ইনামুল, এড়েন্দার ইসমাইল হোসেন, কাজীপাড়ার রিমন, খোলাডাঙ্গার রোমান, ছাত্রলীগ নেতা সাইফুজ্জামান উচ্ছ্বাস, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা রেজওয়ান আলী, বাবলাতলার তারেক আজিজ, আরবপুরের আল আমিন, একই এলাকার রাব্বি, ঝুমঝুমপুরের নুর আলম, শানু ও কামরুজ্জামান, বড়বাজারের মকবুল হোসেন ও শেখ শাহাজাদা সেলিম হৃদয়, মণিরামপুরের ঝাঁপা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান শিবলী এবং কুলটিয়া গ্রামের জাহিদ হাসান সানি। এ মামলায় শেখ শহীদ, ইমরান হোসেন বাদল, মোহাম্মদ আলী, বিপ্লব হোসেন, তানভীর, রফিকুল ইসলাম, রকি, সোহাগ, তারেক আজিজ, নুর আলম, শানু, কামরুজ্জামান, মকবুল হোসেন, হৃদয়, সুমন শেখ ও সেলিমকে আটক করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, ১ নভেম্বর ভোর ৫টা ২০ মিনিটে দড়াটানা মোড়ে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় ২০০ থেকে ২২০ জন নেতাকর্মী লালদীঘিরপাড়ের মাইকপট্টি মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। এ সময় তাঁরা বর্তমান সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিক্ষোভকারীরা জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সংঘটনের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি পালন করেন।
এ বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুসারীরা খুব ভোরে মিছিলটি করেছেন। তবে পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলা করেছে। ওই মামলায় ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও যশোরের নয়টি থানায় পুলিশ ও ডিবি পুলিশ নাশকতা অভিযোগে মোট ৪১ জনকে আটক করেছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানাধিন ১৭ জন আছে। এই ১৭ জনের মধ্যে ৭ জন সরাসরি মিছিল অংশ নিয়েছিল। এ ছাড়া চৌগাছা থানা পুলিশ ২ জন, মণিরামপুর থানা পুলিশ ৩ জন, শার্শা থানা পুলিশ ২ জন, অভয়নগর থানা পুলিশ ৪ জন, কেশবপুর থানা পুলিশ ৩ জন, বাঘারপাড়া থানা পুলিশ ৪ জন, বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ৪ জন এবং ঝিকরগাছা থানা পুলিশ ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
জনপ্রিয়


















