Advertisement

যে ৫ বিষয় আল্লাহর ওপর ভরসা কমিয়ে দেয়

  • অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
যে ৫ বিষয় আল্লাহর ওপর ভরসা কমিয়ে দেয়
প্রকৃত তাওয়াক্কুল হলো আল্লাহর ওপর অন্তরের পূর্ণ আস্থা রাখা, বৈধ উপায় অবলম্বন করা এবং ফলাফল তাঁর হাতে সোপর্দ করা। চিকিৎসা গ্রহণ, মানুষের সহযোগিতা নেওয়া কিংবা জীবিকার জন্য চেষ্টা করা তাওয়াক্কুলের বিরোধী নয়; বরং এসবের পাশাপাশি বিশ্বাস রাখতে হবে, প্রকৃত ক্ষমতা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহরই হাতে। তা সত্ত্বেও কিছু মানুষের মধ্যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলে দুর্বলতা দেখা যায়। যেমন—আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যের ওপর অন্তরের নির্ভরতা স্থাপন করা এবং সৃষ্টির ওপর অতিরিক্ত ভরসা করা। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল দুর্বল হওয়ার কয়েকটি লক্ষণ মানুষের জীবনে স্পষ্টভাবে দেখা যায়—

১. রোগ-ব্যাধির সময় আল্লাহকে ভুলে যাওয়া : অনেক মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসক ও ওষুধের ওপর এমনভাবে নির্ভর করে যে আরোগ্যদাতা হিসেবে আল্লাহর কথা ভুলে যায়। অথচ পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আর আমি যখন অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে সুস্থতা দান করেন।

’ (সুরা : আশ-শুআরা, আয়াত : ৮০) 

চিকিৎসা গ্রহণ করা বৈধ ও প্রয়োজনীয়; কিন্তু আরোগ্যদাতা আল্লাহ—এই বিশ্বাস অন্তরে অটুট রাখতে হবে। অন্যদিকে কিছু মানুষ বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় জাদুকর, গণক ও প্রতারকদের দ্বারস্থ হয়। এতে তারা দুনিয়ার সুস্থতার আশায় নিজেদের ঈমানকেই বিপদের মুখে ফেলে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক জিনদের মধ্যকার কিছু লোকের আশ্রয় নিত; ফলে তারা তাদের ঔদ্ধত্য আরো বাড়িয়ে দিত।

’ (সুরা : জিন, আয়াত : ৬) 

সুতরাং জাদুকর, গণক ও ভণ্ডদের কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। দুনিয়ার সুস্থতার চেয়ে ঈমানের নিরাপত্তা অনেক বেশি মূল্যবান।

২. বিপদে পড়ে আল্লাহর পরিবর্তে সৃষ্টির কাছে আশ্রয় চাওয়া : বিপদ-আপদ ও সংকটের সময় অনেক মানুষ আল্লাহর কাছে না ফিরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘোরে। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা : আত-তালাক, আয়াত : ৩)

মানুষের সাহায্য নেওয়া দোষের নয়, তবে চূড়ান্ত ভরসা ও অন্তরের নির্ভরতা হতে হবে আল্লাহর ওপর।

কারণ আল্লাহ কোনো কিছু ইচ্ছা করলে তা বাস্তবায়নের জন্য শুধু বলেন, ‘হও’, আর তা হয়ে যায়। রাবি ইবনু আবদুর রহমান (রহ.)-এর কাছে এক ব্যক্তি নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য আমিরের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করলেন। তিনি কেঁদে বলেন, ‘ভাই! তোমার প্রয়োজনের ব্যাপারে আল্লাহর দিকে মনোযোগ দাও। তাঁকে তুমি অতি নিকটে পাবে। আমি যখনই কোনো বিষয়ে সাহায্য চেয়েছি, আল্লাহর কাছেই চেয়েছি। তাঁকে যে আন্তরিকভাবে ডাকে এবং তাঁর ওপর ভরসা করে, তিনি তার প্রতি অনুগ্রহশীল ও নিকটবর্তী।’ 

৩. কুসংস্কার ও অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস করা : কিছু মানুষ নির্দিষ্ট নাম, ব্যক্তি, সংখ্যা, রং, দিন বা মাসকে অশুভ মনে করে। এসব কুসংস্কার তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যাকে অশুভ লক্ষণ তার প্রয়োজন পূরণ থেকে বিরত রাখে, সে শিরক করেছে।’ (সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস : ১০৬৫)

অতএব, কোনো কুসংস্কারের কারণে বৈধ কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। কল্যাণ ও অকল্যাণের চূড়ান্ত ক্ষমতা আল্লাহরই হাতে।

৪. ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা : ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভয়, উদ্বেগ ও হতাশা অনেক সময় আল্লাহর ওপর দুর্বল ভরসার প্রকাশ। মুমিনের উচিত যথাসাধ্য চেষ্টা করা, আল্লাহর ওপর নির্ভর করা এবং তাঁর ফয়সালার প্রতি আস্থা রাখা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো ক্ষতি স্পর্শ করান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ প্রতিহত করার কেউ নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে চান, তাকে তা দান করেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১০৭)

৫. হা-হুতাশ বা হারাম উপার্জনে জড়িয়ে পড়া : তাওয়াক্কুল দুর্বল হওয়ার আরেকটি লক্ষণ হলো সব সময় হা-হুতাশ করতে থাকা কিংবা হারাম পথে অর্থ উপার্জন করা। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে জীবিকা দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা : আত-তালাক, আয়াত : ২-৩)

অতএব, জীবিকার জন্য চেষ্টা করতে হবে, তবে তা অবশ্যই হালাল পথে। রিজিকের ভয়ে আল্লাহর অবাধ্য হওয়া উচিত নয় কিংবা ভাগ্যের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করা যাবে না।