Advertisement

২২৭ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে টাইফুন চাম্পি

  • অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
২২৭ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে টাইফুন চাম্পি

সুপার টাইফুন চাম্পির প্রভাবে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান। ঝড়টির আশঙ্কায় বাতিল করা হয়েছে ১২৫টি ফ্লাইট। উপকূলীয় এলাকায় উচ্চ ঢেউ ও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাগুলো।

প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী টাইফুন চাম্পি তাইওয়ান ও চীনের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটারের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে তাইওয়ান ও চীনের উপকূলীয় এলাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাগুলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইফুন চাম্পির আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার তাইওয়ানে স্থলভাগে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়ের কারণে দেশটিতে ১২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণ রুটের। তবে এখন পর্যন্ত দেশটির রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।

তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, একপর্যায়ে সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়া চাম্পি চলতি বছরের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়। বৃহস্পতিবার কিছুটা দুর্বল হলেও ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটারের বেশি ছিল।

বর্তমানে টাইফুনটি তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি উত্তর-পূর্ব তাইওয়ানের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে চীনের উপকূলের দিকে উত্তরে মোড় নিতে পারে। পরে ঝড়টি দক্ষিণ জাপানের দিকে অগ্রসর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টাইফুনটির বিস্তৃতি বেড়ে প্রায় ৩২০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। ফলে তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝড়টির প্রভাবে পড়তে পারে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, এর প্রভাব প্রায় দুই দিন স্থায়ী হতে পারে।

টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ানের উপকূলীয় এলাকায় ছয় মিটারের বেশি উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে। এ আশঙ্কায় মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানী তাইপের কাছাকাছি পাহাড়ি অঞ্চলসহ দেশটির উত্তরের পার্বত্য এলাকাগুলোতে প্রায় এক মিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দিনের শেষভাগে চাম্পি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এরপর এটি সাংহাইয়ের উপকূলসংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলের দিকে উত্তরে অগ্রসর হতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

টাইফুন মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

নিজের ফেসবুক পেজে লাই চিং-তে লিখেছেন, ‘একটু বাড়তি প্রস্তুতি মানে ঝুঁকি কম। তাইওয়ানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। দেশটি সাধারণত টাইফুন মোকাবিলায় ভালো প্রস্তুতি নিয়ে থাকে, ফলে এ ধরনের দুর্যোগে হতাহতের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকে।

টাইফুন চাম্পির প্রভাবে জাপানেও বিমান চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রধান বিমান সংস্থা জাপান এয়ারলাইনস, এএনএ ও স্কাইমার্ক বৃহস্পতিবার থেকে রোববারের মধ্যে ১০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণ রুটের। এতে ১১ হাজারের বেশি যাত্রীর ভ্রমণ ব্যাহত হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, টাইফুনটি জাপানের পশ্চিমতম জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ ইয়োনাগুনির ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে। দ্বীপটি ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের অন্তর্ভুক্ত।

গ্রীষ্মকালে টাইফুনের প্রকোপ বেশি থাকলেও শরৎকালেও এ ধরনের শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানতে পারে। এসব ঝড়ের সঙ্গে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও উপকূলীয় এলাকায় বিপজ্জনক ঢেউয়ের আশঙ্কা থাকে।