গণমানুষের সাথে সম্প্রীতির মেলবন্ধনই প্রধানমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী হেলাল
-
অনলাইন ডেস্ক
- আপডেট সময় : ১০:০১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- চট্টগ্রাম
জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কথা ও কাজের মিল রেখে দেশ পরিচালনা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমীতে ঢাকার গণ্ডি পেরিয়ে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে পূজার্থীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবার পূজার ছুটি ও সরকারি বরাদ্দ উভয়ই বৃদ্ধি করেছেন তিনি।
গতকাল কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী লাবণী পয়েন্ট সমুদ্র সৈকতে আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এসব কথা বলেন।
নির্বাচনী অঙ্গীকার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা যে ‘রেইনবো জাতি’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্টভাবে সেই পথেই চলেছে। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে সর্বস্তরের মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতায় আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। আজকের এই সমুদ্র সৈকতে উপচে পড়া জনসমুদ্রই প্রমাণ করে, আমরা যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, আজও সেই ধারা অক্ষুন্ন রয়েছে।
বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, বিগত আমলের সরকার প্রধান মুখে ধর্মের কথা বললেও কাজের মাধ্যমে কখনো তা প্রমাণ করতে পারেননি। অথচ আজ থেকে দীর্ঘ ৩০ বছর আগে এই চট্টগ্রামের মাটিতে জন্মাষ্টমী উৎসবে সাধারণ মানুষের মাঝে উপস্থিত হয়ে উৎসবকে আরও মহিমান্বিত করে তুলেছিলেন তৎকালীন সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিগত সরকার প্রধানের মুখে শুধুই বাণী শোনা গেছে, তবে গণমানুষের সুখে-দুঃখে বা ধর্মীয় উৎসবে সরাসরি তাঁদের এমন সশরীরে অংশগ্রহণ করার দৃষ্টান্ত দেখা যায়নি।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এবারের প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে এক অনন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের লাখো মানুষের উৎসবমুখর অংশগ্রহণে সৈকতজুড়ে অভূতপূর্ব আবহ সৃষ্টি হয়। কেবল লাবণী পয়েন্টেই বিভিন্ন উপজেলাসহ লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরের প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এছাড়া জেলার রামুর বাঁকখালী নদী, চকরিয়ার মাতামুহুরী, টেকনাফের নাফ নদী ও সাগর, এবং উখিয়ার ইনানী ও রেজু নদীতে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে বিসর্জন সম্পন্ন হয়। চলতি বছর কক্সবাজার জেলার ৩২৪টি মণ্ডপে (১৫৫টি প্রতিমা ও ১৬৯টি ঘটপূজা) শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে, যা দেশের সর্ববৃহৎ বিসর্জন উৎসব হিসেবে সবিশেষ সুখ্যাতি লাভ করেছে।
সমগ্র কক্সবাজার জেলায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। মণ্ডপ থেকে প্রতিমা শোভাযাত্রা, বহর পরিচালনা ও সৈকত সংলগ্ন মোড়গুলোতে পুলিশ, আনসার এবং সাদা পোশাকের বিশেষ নজরদারি নিশ্চিত করায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উক্ত অসাম্প্রদায়িক মহামিলন মেলায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন—কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি নিশাত এঞ্জেলা, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সোমেশ্বর চক্রবর্তী, দুলাল চক্রবর্তী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিসান, ছাত্রদল সভাপতি ফাহিমুর রহমান ফাহিম, পূজা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা, জেলা শ্রমিক দল সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাপ্পী শর্মা, সাধারণ সম্পাদক বলরাম দাশ অনুপম, পৌর সভাপতি তপন দাশ এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুজন শর্মা সহ প্রমূখ।
জনপ্রিয়


















