Advertisement

মৃত্যুদণ্ড হওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে নতুন তথ্য দেয়নি সৌদি

মৃত্যুদণ্ড হওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে নতুন তথ্য দেয়নি সৌদি
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে এখনো নতুন কোনো তথ্য জানায়নি দেশটির সরকার। শুক্রবার (২১ অক্টোবর) কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদের পরিবারকে মরদেহ হস্তান্তর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, সৌদি আরবের কারাগারে সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। বাকিদের ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদের পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিহত শাহেদ আহম্মদের পরিবারকে দ্রুত সরকারি অনুদান পৌঁছে দেওয়া হবে।’

এর আগে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি আরব। দেশটির জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি গোপনীয় নথিতে এ তথ্য জানানো হয়। ওই নথির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি।

এমনকি তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি।১৪ অক্টোবর সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমের খবর থেকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানা যায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সৌদির গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে এই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা। এই দুই ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য সৌদির কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করেনি বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলখানায় বিভিন্ন অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল। এই অনুরোধের ভিত্তিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তালিকা পাওয়া যায়। এই তালিকায় নজরুল ও সুইটির নাম পাওয়া যায়। তবে তালিকায় তাদের শাস্তির বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তারা সৌদির আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তালিকার তথ্য অনুযায়ী, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্য-প্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়। নজরুল ছিলেন জেদ্দা সংশোধনাগারে। সুইটি ছিলেন জেদ্দা নারী কারাগারে। তালিকায় তাদের কারো সাজার বিষয়টি উল্লেখ ছিল না বলে চিঠিতে বলা হয়।

সৌদি আরবে তথ্য-প্রযুক্তি বা ব্যভিচারের অভিযোগে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের নৈতিকতা–সংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশির আটক থাকার তথ্য তালিকায় আছে। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষিত হয়েছে। সর্বনিম্ন সাজা এক মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড।