Advertisement

সমুদ্রতলে তার কেটে দেয়ার হুমকি ইরানের

সমুদ্রতলে তার কেটে দেয়ার হুমকি ইরানের

ইরান আক্রান্ত হলে সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেব্‌লে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। দেশটির হুমকি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক কি বিশ্বকে সংযুক্ত রাখতে পারবে? প্রযুক্তিটি জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক তথ্য আদানপ্রদানে সাবমেরিন কেব্‌লের বিকল্প হয়ে ওঠার সক্ষমতা এখনো নেই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের।

সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেব্‌ল কেটে গেলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে সাধারণত বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে সাবমেরিন কেব্‌লের বিকল্প হয়ে ওঠার সক্ষমতা এখনো অর্জন করতে পারেনি স্যাটেলাইট প্রযুক্তি।

সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রতলের কেব্‌ল ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিকল্প পথে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া সম্ভব। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চল, দুর্যোগকবলিত এলাকা এবং প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে।

আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৯৯ শতাংশের বেশি আন্তর্জাতিক তথ্য আদানপ্রদান সাবমেরিন কেব্‌লের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সমুদ্রতল দিয়ে বিছানো এসব কেব্‌লে আলোকসংকেতের সাহায্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে পরিবহন করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের সাবমেরিন কেব্‌ল নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ লাখ কিলোমিটার। আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেব্‌ল সুরক্ষা কমিটির তথ্য অনুসারে, প্রতিবছর এ ধরনের কেব্‌লে প্রায় ২০০টি বিচ্ছিন্নতা বা ক্ষতির ঘটনা ঘটে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে সক্ষমতার পার্থক্য বোঝাতে একটি কাল্পনিক উদাহরণ দেয়া হয়েছে। কোনো সাবমেরিন কেব্‌লের তথ্য পরিবহনের সক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে ২০ টেরাবিট এবং বিকল্প স্যাটেলাইট সংযোগের সক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে ১ গিগাবিট হলে, প্রথমটির সক্ষমতা হবে দ্বিতীয়টির তুলনায় ২০ হাজার গুণ বেশি।

এই হিসাবে, একটি ১ গিগাবিটের স্যাটেলাইট সংযোগ ওই কেব্‌লের সক্ষমতার মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য পাঁচ শতাংশ পূরণ করতে পারবে। তবে এটি একটি গাণিতিক উদাহরণ, স্টারলিংকের প্রকৃত সক্ষমতার পরিমাপ নয়।

জরুরি যোগাযোগে কার্যকর স্টারলিংক: 

সমুদ্রতলের কেব্‌ল বিচ্ছিন্ন হলেও একটি দেশের সব ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে যায় না। বিকল্প কেব্‌ল ও স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে তথ্যপ্রবাহ অন্য পথে পরিচালনা করা সম্ভব। তবে একাধিক কেব্‌ল ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা বিকল্প পথের সক্ষমতা সীমিত থাকলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল, জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সচল রাখতে স্টারলিংক সহায়তা করতে পারে। তবে স্যাটেলাইটের সক্ষমতা, ভৌগোলিক আওতা, ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির প্রাপ্যতার ওপর এর কার্যকারিতা নির্ভর করে।

নিম্ন কক্ষপথে থাকা স্টারলিংকের স্যাটেলাইটগুলো প্রচলিত ভূস্থির কক্ষপথের স্যাটেলাইটের তুলনায় সাধারণত কম বিলম্বে তথ্য আদানপ্রদানের সুযোগ দেয়। তবু বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিডিও দেখা, বড় তথ্যভান্ডার স্থানান্তর কিংবা বড় শহর ও তথ্যকেন্দ্রের সামগ্রিক চাহিদা পূরণে এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটব্যবস্থাকে বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্ষম করতে একাধিক সাবমেরিন কেব্‌ল, স্থলভিত্তিক ফাইবার নেটওয়ার্ক এবং স্যাটেলাইট সংযোগের সমন্বয় প্রয়োজন। অর্থাৎ, সমুদ্রতলের কেব্‌লের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং জরুরি সময়ে অতিরিক্ত যোগাযোগপথ হিসেবে স্টারলিংকের গুরুত্ব বেশি।